সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

আগৈলঝাড়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের লাঙ্গল

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া
দক্ষিণ বাংলা মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়াঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাঙালীর শতবছরের কাঠের লাঙ্গল কালের বিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আমাদের এদেশ কৃষি প্রধান দেশ। একসময় ক্ষেতে খামারে কৃষকরা লাঙ্গল ও মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য সবার নজর কারতো। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদে বহুল ব্যবহৃত কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট লাঙ্গল আজ বিলুপ্তির পথে। চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে কাঠের লাঙ্গল ছিল অপরিহার্য। এক সময় কাঠের লাঙ্গল ছাড়া গ্রাম বাংলায় চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা যেত না। কিন্তু আধুনিক যুগে পদার্পন করে চাষাবাদেও যান্ত্রিক উপকরন আবিস্কারের প্রভাবে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ওই সব লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ। এসবের ব্যবহার স্বল্প আয়ের কিছু সংখ্যক কৃষক পরিবারে কোন রকমে টিকে থাকলেও বিজ্ঞানের ক্রমশ: উৎকর্ষের যুগে কৃষিকাজে ঠাঁই করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর। এর ফলে মানুষ আগের তুলনায় সময়, শ্রম এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বৈকি তবে যন্ত্রটির মূল্য সবার সাধ্যের মধ্যে না থাকায় একক ভাবে অনেকেরই কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব যন্ত্র দিনে দিনে কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। যন্ত্রটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষাবাদের সবধরণের কাজেই এটি ব্যবহার করছে কৃষক। অপরদিকে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেউ কেউ আবার বানিজ্যিক ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টরও ভাড়া দিচ্ছে। এখন গ্রামেগঞ্জের অনেকেই কৃষিমৌসুমে হাটবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষাবাদের সেই পুরনো দিনের কালের সাক্ষী লাঙ্গল, জোয়াল, মই ইত্যাদি সরঞ্জামের পসরা সাজিয়ে বসে। যারা এগুলোকে পেশা হিসেবে নিয়ে তৈরি করছেন তাদের অনেকেই বেশিরভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। তখনকার সময় এটিও ছিল কারও কারও পেশা। যার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। সেই কাঠের লাঙ্গল যেন আজ শুধুই প্রাচীণ ঐতিহ্য বহন করে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।


আরো নিউজ