করোনা ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১
করোনা ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়ে গেছে ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি। আর কিছুদিনের মধ্যে হয়তো বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যাবে সেটি। তবে এই ভ্যাকসিন নিলে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে অথবা আদৌ গুরুতর কোনো সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।

জেনে নেয়া যাক করোনা ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে-

যেকোনো ভ্যাকসিনেই কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যেমন- শরীরে ইনজেকশন দেয়া জায়গা ফুলে যায় বা লাল হয়ে ওঠে। তিনদিনের মধ্যে অবসাদ, জ্বর, মাথাব্যাথা অথবা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যাথা হতে পারে। তবে এর কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী নয়৷

শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা শুরু হলে অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে থাকায় এধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। অনুমোদন পাওয়া করোনা ভ্যাকসিনগুলোর ক্ষেত্রেও এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভ্যাকসিনে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে এধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- যুক্তরাজ্যে ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি শুরুর পর গত ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুইজনের শরীরে অ্যালার্জি দেখা গেছে। এছাড়া, নরওয়েতে ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার পর ২৩ বৃদ্ধ মারা যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে। যদিও স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মৃতরা ভ্যাকসিন নেয়ার আগে থেকেই হয়তো গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন।

তাছাড়া, সবদিক দিয়ে নিরাপদ বিবেচিত হওয়ার কারণেই করোনা ভ্যাকসিনগুলোর অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভ্যাকসিনের উপাদান
ভ্যাকসিনে সাধারণত দুর্বল বা মৃত ভাইরাস থাকে, যার মাধ্যমে শরীরে আক্রমণকারী ভাইরাসের বিপরীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা হয়। তবে করোনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিনে প্রথমবারের মতো এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভাইরাসের বদলে রয়েছে করোনাভাইরাসের ব্লুপ্রিন্ট বা প্রতিরূপ। একারণে দুই ধরনের ভ্যাকসিনে ভিন্ন ভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

ফাইজার-বায়োএনটেক
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনে গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভ্যাকসিনগ্রহীতাদের মধ্যে কেউ কেউ সাময়িক অবসাদ ও মাথাব্যাথায় ভুগেছেন। এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ভ্যাকসিন নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে একজন ও যুক্তরাজ্যে দুইজনের ত্বক লাল হয়ে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আগে থেকেই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা।

ফাইজারের মতো মডার্নাও তাদের ভ্যাকসিন তৈরিতে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ভ্যাকসিনেও তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। হালকা যেসব প্রতিক্রিয়া হয়েছে, সেগুলোও সাময়িক।

তবে, মডার্নার ভ্যাকসিন নেয়ার পর ১০ শতাংশ গ্রহীতা অবসাদে ভুগেছেন বলে জানিয়েছে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক প্যানেল। এছাড়া, হাতেগোনা কিছু রোগী অ্যালার্জি ও মুখের স্নায়ু নিষ্ক্রিয় হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগেছেন। যদিও, এর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলার সময় একজন গ্রহীতা মেরুদণ্ডের প্রদাহে ভোগেন। গত সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার পর কিছুদিন ট্রায়াল বন্ধ ছিল। পরে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরীক্ষার পর জানায়, ওই লোকের অসুস্থতার কারণ ভ্যাকসিন ছিল না।

এছাড়াও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নেয়ার পর ইনজেকশন দেয়া জায়গা ও পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যাথা ও অবসাদে ভোগার মতো সাধারণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিশ্বের মধ্যে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন হিসেবে গত আগস্টে নিজেদের স্পুটনিক ফাইভ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয় রাশিয়া। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ার আগেই অনুমোদন দেয়ায় এর নিরাপত্তা-কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের। ভ্যাকসিনটিতে দুই ধরনের পরিবর্তিত অ্যাডেনোভাইরাস ব্যবহার করা হয়েছে।

রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যতে, স্পুটনিক ফাইভ নেয়ার পর জ্বর, মাথাব্যাথার মতো কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে গুরুতর কোনও সমস্যা হয়নি। যদিও, ভ্যাকসিনটির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

এখন পর্যন্ত যতগুলো ভ্যাকসিনের তথ্য জানা গেছে, সেগুলো আসলে পরিপূর্ণ তথ্য নয়। ভ্যাকসিনগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে মানবদেহে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা এখনও অজানা। আগামী মাসগুলোতেই সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে


আরো নিউজ