কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থীর, সাংবাদিক লাঞ্চিত

মোংলা প্রতিনিধি
দক্ষিণ বাংলা শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১
কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থীর, সাংবাদিক লাঞ্চিত

দ্বিতীয় দাপে মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনের ৫নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর বহুমুখী কওমী মাদরাসা কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উটপাখী প্রতিকের লোকজন পানির বোতল প্রতিকের ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দিয়ে তাদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষ প্রার্থী মোঃ মাছুম বিল্লাহ। এসময় ওই প্রার্থীর বড় ভাই মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম দুলালকেও লাঞ্চিত করা হয়। স্থানীয় ভোটারের দাবি তারা ভোট দিতে গেলে তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে আবার ইভিএম মেশিনে টিপ রেখে বের করে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ভোটারকে মারধরও করেছেন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উটপাখি প্রতিকের এসএম শরিফুল ইসলামের লোকজন।

এসময় পানির বোতল প্রতিকের প্রার্থী মাছুম বিল্লাহ বলেন, আমার ভোটাররা যখন ভোট দিতে গেছে তখন বেশ কয়েকজন নারী সমর্থকরা ভোটারদের বের করে দিয়েছেন। তারা ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসময় ভোট দিতে না পারায় ভোটাররা বলেন, আমরা আমাদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম। ভোট দিতে আসা অনেকেই বলেন, মানুষ তার পছন্দমত ভোট দিতে পারছেন না। জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ভোট দিতে যাচ্ছে তাদের ইভিএম কেন্দ্রে ঢুকে জোর করে ইভিএম’র ভোট নিয়ে নিচ্ছে।

মোংলা উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজ বংশী বলেন, একটু সমস্যা হয়েছিল, ওখানে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের চেষ্টায় বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

মোংলা পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রে ১৩৮টি ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান, বিএনপির জুলফিকার আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকছেদুর রহমান গামা মেয়র পদে নির্বাচন করেন। এছাড়া ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৫ জন কাউন্সিলর ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১২ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এই নির্বাচনে ৩১ হাজার ৫২৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬৮১ জন পুরুষ এবং ১৪ হাজার ৮৪০ জন নারী ভোটার রয়েছে।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মোংলা পোর্ট পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রের জন্য ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২২০ জন পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ১২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য ১২ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।


আরো নিউজ