চারদিনেই বাঘাইড়ে লাখপতি জেলে ওয়ালিউর!

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
চারদিনেই বাঘাইড়ে লাখপতি জেলে ওয়ালিউর!

রাজশাহীর পদ্মা থেকে ৪০ কেজির বাঘাইড় পাওয়ার পর আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ফের ৯ কেজি ওজনের রুই ও সাড়ে তিন কেজি ওজনের বাঘাইড় উঠেছে ওয়ালিউর রহমানের জালে। ৯০০ টাকা কেজি দরে রুইমাছটি বিক্রি করেছেন আট হাজার ১০০ টাকায়। আর ৩৫০ টাকা দরে বাঘাইড়টি বিক্রি করে এক হাজার ২২৫ টাকা দাম পেয়েছেন এই জেলে।

জানা গেছে, গতকাল রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) ওয়ালিউর পেয়েছিলেন ৪০ কেজির বাঘাইড়। ৮৫০ টাকা দরে দাম পেয়েছেন ৩৪ হাজার টাকা। এর দিন তিনেক আগে ৫টি বাঘাইড় পেয়েছিলেন তিনি। ওজন হয়েছিল ৭৪ কেজি। এর মধ্যে ২টি ১৭ কেজি, ১টি ১৪ কেজি ও আর বাকি ২টি ২৬ কেজি ওজন হয়েছিল। মাছগুলো ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

এখানেই শেষ নয়। ওয়ালিউর জানান, তার আগের দিন আরও একটি ২৪ কেজি ওজনের বাঘাইড় ধরা পড়ে তার জালে। সেটা বিক্রি করে পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা।

ওয়ালিউরের সাথে কথা বলে জানা যায়, চারদিনেই তার জালে ধরা পড়েছে ১৫০ কেজির বেশি মাছ। সেগুলো বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় সোয়া লাখ টাকা। ফলে চারদিনেই লাখপতি হয়েছেন ওয়ালিউর রহমান।

গত এক সপ্তাহেই এতগুলো মাছ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলে ওয়ালিউর রহমান। তিনি বলেন, এটা খুবই আনন্দের ব্যাপার যে, এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি মাছ বিক্রি করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এখনতো ইলিশ পাওয়া যায় না। তাতে সমস্যা নাই। বাঘাইড়ের দাম পাচ্ছি ইলিশের চেয়েও বেশি। আর বিক্রি করতেও কোনো ঝামেলা হয় না। খবর দিলে ঘাটে এসেই ব্যাপারিরা মাছ কিনে নিয়ে যায়।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাশখালি গ্রামের ইউসুফ আলী দেওয়ানের ছেলে ওয়ালিউর রহমান (৩২)। মৌসুমে পদ্মা নদীতে মাছ ধরেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মোটরবাইকে যাত্রী বহন করেন পদ্মার দুর্গম চরে। সেই আয়েই চলে সংসার।

ওয়ালিউর জানান, নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন তিনি। তাদের সংসারে নেই আর্থিক দৈন্যতা। বাবা-মা চেয়েছিলেন লেখাপড়া করাতে, কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি বিদ্যালয় ছাড়েন।

ওয়ালিউর বলেন, আমি নিজের দোষেই লেখাপড়া ছেড়েছি। তারপর থেকেই মাছ ধরি আর মোটরসাইকেলে ভাড়া মারি। সাত বছর আগে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রীর নাম জোহরা খাতুন। আমার দুইটা ছেলে। বড় ইয়ার হোসেন জুনায়েদের বয়স ৫ বছর। আর পাঁচ মাস আগে আরেকটি ছেলে হয়েছে। নাম রেখেছি জাহিদ হাসান।

তিনি বলেন, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমার পরিবার। মাছ ধরে আর ভাড়া মেরে যা আয় করি তাই দিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালোই চলি।

ধারাবাহিকভাবে ওয়ালিউরের জালে বড় বড় বাঘাইড় ওঠার খবরটি ওই এলাকার মানুষের মাঝে কৌতূহলের উদ্রেক করেছে। মাছ দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ দেখতে ভিড় করেন বলে জানা গেছে।

চারঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, ওয়ালিউর পদ্মা থেকে লাগাতার বড় বড় বাঘাইড় তুলছে। ৪০ কেজির মাছটি পাওয়ার পর আমি দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক মানুষ ভিড় করেছিল মাছটি দেখতে।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে মোটামুটি বছরজুড়েই বাঘাইড় মাছ পাওয়া যায়। শীতকালে একটু কমই ধরা পড়ে। বড় বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে শুনেছি। এটা একটা ভালো দিক, এর কারণে জাটকা ধরার প্রবণতা কমে গেছে।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD