দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পথের দুরত্ব ও ভোগান্তি ঘুচলো গ্রামবাসীর, দখলদারদের হয়রানির শিকার গ্রামবাসী - দক্ষিণ বাংলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পথের দুরত্ব ও ভোগান্তি ঘুচলো গ্রামবাসীর, দখলদারদের হয়রানির শিকার গ্রামবাসী - দক্ষিণ বাংলা
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পথের দুরত্ব ও ভোগান্তি ঘুচলো গ্রামবাসীর, দখলদারদের হয়রানির শিকার গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

বাধা-বিপত্তির পরও চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পথের দুরত্ব ও ভোগান্তি ঘুচলো বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের বালীপাড়া গ্রামের পরিবারের বাসিন্দাদের।

এ নিয়ে গ্রামের বাসিন্দারা বেশ উচ্ছসিত। তারা বলছেন, আগে বালীপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের লবনাসারা কিংবা বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদে যেতে গ্রামবাসীর বেশ ভোগান্তি পোহাতে হতো, তবে সড়কটি হওয়ায় এখন পায়ে হাটা কয়েক মিনিটের পথেই লবনসাড়া হয়ে বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদে যাওয়া যাবে সহজে।

যদিও মাটির এ সড়কটি নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ এলাকার গরীব দিনমজুরকে মামলার আসামী হওয়াসহ নানান হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,বালীপাড়া থেকে লবনাসারার রাস্তাটির পাশের খালটি আশির দশকের দিকে কাটা হয়েছিলো।আর সেই খালটি কাটার সময়েই তার পাশ দিয়ে রাস্তাটি রাখা ছিলো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সে খালের পাশের কিছু জায়গা ও রাস্তা দখল করে স্থানীয় ক্ষমতাসীর ব্যক্তিরা গাছ লাগিয়ে ভোগ-দখল শুরু করেন এবং একসময় নিজেদের দাবি করতে থাকেন। ফলে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যায় এবং বালীপাড়া এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পরে যান। দৃশ্যত অন্যের জমির ওপর দিয়ে হাটা-চলা করতে গিয়ে নানান বাধা-বিপত্তি দেখা দিলে নদীপথ ব্যবহার শুরু করেন ওই এলাকার মানুষেরা। এতে অল্প দুরত্বে থাকা উপজেলা সদরে যেতেও সাধারণ মানুষকে সময় ও অর্থ ব্যয় করে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।পরবর্তীতে বিষয়টি বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রাহাত আহম্মেদ ননী জানতে পেরে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে রাস্তাটি পুনঃনির্মানের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার মাঝেই নানান ধরনের হুমকি-ধামকি, থানায় অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন রাশেদুল হাসান মিলন ও তার ভাই রাশেদুল ইসলাম হিরনসহ দখলদাররা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন,রাস্তাটি দিয়ে বর্তমানে আশপাশের আড়াইশতের বেশি পরিবার চলাচল করছেন। আশির দশকের দিকে জিয়ার খাল নামের খালটি সরকারিভাবেই খনন করা হয়েছিলো, যার পাশেই মাটির রাস্তাটি ছিলো। কিন্তু ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে যেতে থাকলে সেটির ও রাস্তার জায়গা দখল করে গাছ লাগিয়েছে কতিপয় প্রভাবশালীরা। এরপর থেকে স্থানীয় মানুষগুলো রাস্তার অভাবে ভোগান্তিতে পরেন।

তিনি বলেন,যখন স্থানীয় চেয়ারম্যান কাবিখার সহায়তায় সরকারি মাটির রাস্তাটি তৈরি করতে যান, তখনই তাকে বাধা দেয়া হয়। বাধার মুখেই গ্রামাবাসীর সহায়তায় চেয়ারম্যান সাহেবেরে উদ্যোগে রাস্তাটির কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু তারমধ্যেই আমরা নানান ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। প্রভাবশালী রাশেদুল হাসান মিলন ও তার ভাই রাশেদুল ইসলাম হিরন থানায় অভিযোগ দেয়াসহ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যেখানে আমিসহ এলাকার গরীব দিনমজুরদের আসামী করে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,আমরা যতদুর জানি খালটি ৪৬-৪৭ ফুট প্রশস্ত ছিলো, কিন্তু বর্তমানে ২০-২২ ফুট রয়েছে। তারপরও প্রভাবশালীদের হয়রানির কারনে গত কয়েকদিন আগে সরকারি আমিনের সহায়তায় রাস্তা ও খালের জমি মেপে দেখতে পাই, রাস্তার পরেও ২২-২৩ ফুট জায়গা রয়েছে যা সিকিস্তি বা সরকারি জায়গা।অর্থাৎ রাশেদুল হাসান মিলন ও তার ভাই যে দাবি করেছেন রাস্তার জায়গা তাদের কিন্তু এটি আদৌ তাদের নয়। এখন সরকারি আমিন এসে জায়গা মেপে লাল নিশান দিয়ে দিয়েছে, যেখানে খাল ও রাস্তার পরেও ২২ ফুটের মতো জায়গা সরকারি জায়গা রয়েছে।

তিনি বলেন,আমরা সরকারি জায়গাতে মানুষের কল্যানে রাস্তা করে যেহেতু হয়রানির শিকার হচ্ছি, তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দিয়েছি। আশাকরি তিনি তদন্ত করে বিষয়টি দেখবেন। পাশাপাশি সরকারি আমিন মেপে যা পেয়েছেন সেই অনুযায়ীও সরকারি জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নিবেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রাহাত আহম্মেদ ননী জানান, রাস্তাটি নির্মানের ফলে আশপাশের প্রায় ৩ শত পরিবারের মানুষদের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির মুখেই খালটির দক্ষিন পার থেকে ১৬ শত ফুটের বেশির দৈর্ঘ্যের মাটির রাস্তাটি নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো।

আবার যারা গোটা রাস্তার প্রায় ২ শত ফুটের মতো সরকারি জায়গা দখলে রেখেছিলো,তারাই নিজ উদ্যোগে তা ছেড়ে দেয়ার কথা বললেওও নানানভাবে ঘুরাতে শুরু করে। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের সহায়তা হিসেবে আমাদেরও বংশের অনেকেই নিজেদের জায়গা ছেড়েছেন।দখলদারিত্বের মধ্যেই স্থানীয়রা মিলেই মাটির রাস্তাটি বেধে ফেলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদাররা ইউপি সদস্যসহ তাদের নামেই মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ যারা রাস্তার জায়গা নিজের দাবি করেছে, সরকারি আমিন দিয়ে খালের জমি মাপার পর দেখা গেলো রাস্তাটি সরকারি জায়গাতে আছে। অর্থাৎ রাশেদুল হাসান মিলন ও তার ভাইসহ যারা রাস্তার জায়গা নিজেদের দাবি করছে তারা অবৈধভাবে তা দাবি করছে। এখন উপজেলা প্রশাসনই বিষয়টি দেখবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন, সরকারি জায়গা দখলে রেখে সরকারের উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্থ করলে, বাধাপ্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আদালতও ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ওই গ্রামবাসীকেই আদালতের নজরে বিষয়টি আনতে হবে। আর আদালত যদি উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়, সেক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে সহায়তা করবে।

দক্ষিণ বাংলা ডটকম এর জন্য সারাদেশে সংবাদ দাতা নিয়োগ চলছে
যোগাযোগঃ- ০১৭১১১০২৪৭২, news@dokhinbangla.com




এই ক্যাটাগরির আর নিউজ




Salat Times

    Dhaka, Bangladesh
    মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩১
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৭
    যোহরদুপুর ১১:৫১
    আছরবিকাল ৩:১৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৫৬
    এশা রাত ৭:১১




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দক্ষিণ বাংলা:-2018-2021
সারাদেশের সংবাদ দাতা নিয়োগ চলছে ০১৭১১১০২৪৭২
themesba-lates1749691102
বাংলা English