জাবির পাশে গেরুয়ায় সংঘর্ষে আহত বেড়ে ৪০, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
জাবির পাশে গেরুয়ায় সংঘর্ষে আহত বেড়ে ৪০, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নয় রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

তারা বলছেন, ‘ঘটনার দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হারুন অর রশীদ নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করে বলেন, ‘এখানে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলছে। অথচ পুলিশের গুটিকয়েক সদস্য রয়েছেন। তারা কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘আমি ঢাকা জেলা উত্তর পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু তারা ফোর্স পাঠাতে ব্যর্থ।’

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়। পরে সংঘর্ষ থেমে গেলেও উভয়পক্ষ মারমুখি অবস্থানে থাকায় এলাকায় উত্তপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্তব্যরত ডা. মাহফুজুল কবীর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছি। আহতদের অধিকাংশই মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। পাঁচজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের ঝামেলা হয়। ঐ ঝামেলা মিটমাট করার জন্য শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আলোচনা চলাকালে আবার কথা কাটাকাটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে গেরুয়া বাজারের একটি ভবনে আটকে রাখা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদেরকে মারধর করেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল, কার্যনির্বাহী সদস্য এলেক্সসহ তিনজন আহত হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঁচটি মোটরবাইক ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা। এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গেরুয়া এলাকার প্রবেশমুখে জড়ো হন। তখন থেকেই ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এর মধ্যে গেরুয়া এলাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকেন বলে জানা গেছে। গেরুয়া এলাকার মেস ও বাসাবাড়িতে এখনো অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আছেন বলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD