দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না - দক্ষিণ বাংলা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না - দক্ষিণ বাংলা
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ২৫ জন নিউজটি পড়েছেন
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না

আসন্ন রমজান আর হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়া করোনার প্রভাবে লাগাম ছুটতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের। শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে ‘বোবা কান্না’।

বিশেষ করে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলা দ্রব্যমূল্যের কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন নারায়ণগঞ্জের নিম্নআয়ের মানুষ। সামনের দিনগুলোতে এ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের উদগিরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে দ্রব্যমূল্যের হঠাৎ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে কৃত্রিম সংকট রোধে বাজার মনিটরিং ও মজুতদারি বন্ধ করা হবে।

জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রায় অর্ধশত জেলার মানুষই জীবিকার টানে কাজ করেন। দেশের বৃহত্তম রপ্তারি খাত নিট শিল্পের সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে কাজ করছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে রয়েছেন আরো প্রায় ১০ লাখ স্থানীয় ও অন্য জেলার মানুষ, যাদের সিংহভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের।

গত বছরে করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের তরফ থেকে পাওয়া ত্রাণের বাইরে জীবিকার মাধ্যম হারিয়ে বেশির ভাগ নিম্নআয়ের মানুষই দিন কাটিয়েছেন অবর্ণনীয় দুর্দশায়।

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কারণ এসব পরিবারের লোকজন মুখ খুলে কাউকে বলতেও পারেননি কিংবা হাত পাততে পারেননি। সেই লকডাউন পরিস্থিতি কাটিয়ে গত কয়েক মাসে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টায় থাকা এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি।

সরেজমিন দেশের ভোজ্যসামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ মোকাম শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় গিয়ে পাওয়া গেছে এর সত্যতা। জানা গেছে, গত ১ মাসে গুঁড়োদুধের দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। শিশুখাদ্যের মূল্যও একইভাবে বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। এছাড়াও সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকা; যা গত মাসের তুলনায় ৩০ টাকা বেশি। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি; যা আগের চেয়ে কেজিতে বেড়েছে ৬-৭ টাকা এবং চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা দরে।

এছাড়াও ডাল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যসামগ্রীর দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এই মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই।

জেলার ফতুল্লা এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকার অসংখ্য গার্মেন্টকর্মীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, করোনার মধ্যে কয়েক মাস কারখানা বন্ধ ছিল। বেতন বাড়েনি। বাড়িওয়ালা করোনার কারণে কিছু ভাড়া মাফ করলেও এখন ভাড়া বাড়িয়েছেন। কারণ বাড়িওয়ালাদেরও একই সমস্যা ছিল। কিন্তু এসব সংকট না কাটতেই বাজারে মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা দিশেহারা।

কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমাদের বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না। কিন্তু ক্রয়ের সক্ষমতা হারাতে বসেছে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। উপার্জনের সঙ্গে মিল-অমিলের হিসাব কষতে গিয়ে আমাদের বোবা কান্না কাউকে দেখানোর উপায় নেই।

এদিকে রমজান যত ঘনিয়ে আসবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্কুলশিক্ষক জানান, নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ করেই করোনার প্রকোপ বেড়ে গেছে। সামনে কী হয় এ নিয়ে গুজবের ডালপালাও মেলছে। আবার রমজানও ঘনিয়ে আসছে। এমনিতেই রমজানের আগে জিনিসপত্রের দাম দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাই সামনে কী আছে আমাদের ভাগ্যে জানি না।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির ব্যাপারে আমরা জেনেছি এবং ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে জরুরি সভা হয়েছে। রমজান ও করোনা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় আমরা এ ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার নির্ধারিত দ্রব্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে চলতি সপ্তাহেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এ অভিযান নিয়মিত চলবে।




নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ




Salat Times

    Dhaka, Bangladesh
    মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:১৫
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৭
    আছরবিকাল ৩:২৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:২২
    এশা রাত ৭:৪১




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2018-2020
সারাদেশের সংবাদ দাতা নিয়োগ চলছে ০১৭১১১০২৪৭২
themesba-lates1749691102
বাংলা English