দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর দক্ষিণ বাংলা - দক্ষিনের জনপদের খবর নির্বাচনী প্রচারে মমতার ঝড়, আতঙ্কে শুভেন্দু - দক্ষিণ বাংলা নির্বাচনী প্রচারে মমতার ঝড়, আতঙ্কে শুভেন্দু - দক্ষিণ বাংলা
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনী প্রচারে মমতার ঝড়, আতঙ্কে শুভেন্দু

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১
  • ৪০ জন নিউজটি পড়েছেন
নির্বাচনী প্রচারে মমতার ঝড়, আতঙ্কে শুভেন্দু

তিনি নিজেকে নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ বলে দাবি করেন। সেই জোরেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে পরাজিত করার ডাক দিয়েছেন। তৃণমূল ছেড়ে প্রার্থী হয়েছেন নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম কলকাতা টোয়েন্টিফোর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক নেত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে ভীত শুভেন্দু শুক্রবার নন্দীগ্রামে প্রচারে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাইলেন, ‘বিজেপিতে গিয়ে ঠিক করেছি তো..?’

এই প্রশ্ন শুনে রাজনৈতিক মহলের মনে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী কী নিজেই নিজের চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে পড়লেন? কেননা নন্দীগ্রামে প্রচারে চাপ বাড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তাই কী আতঙ্কে শুভেন্দু অধিকারী? এই প্রশ্ন এখন নন্দীগ্রামের মানুষের মুখে মুখেও ঘুরছে।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘অনেক স্নেহ দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে যাদের রেখেছিলাম তারা গদ্দারী করে দল ছেড়েছে। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়বো না।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবারও পূর্ব মেদিনীপুরে প্রচারে এসে শুভেন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করে ‘গাদ্দার’, ‘মীরজাফর’ বলে সমালোচনা করেছেন।

কলকাতা টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের সাতদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে তার প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে নন্দীগ্রামের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন দিতে চলেছে। অন্যদিকে প্রচারে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।

প্রশ্ন এখানেই, শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন তিনি নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র, হাতের তালুর মতো তিনি নন্দগ্রামকে চেনেন। তাহলে সেই ভূমি পুত্রকে প্রচারে কালো পতাকা দেখাচ্ছে কারা? পর পর চারদিন প্রচারে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী যাকে নন্দীগ্রামে বহিরাগত বলতেও কুণ্ঠা করেননি সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় মানুষকে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দুই মেদিনীপুরে প্রবেশ করে প্রচারের ঝড় তুলেছেন তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিহত করার জন্য পুরো দিল্লির সরকারকে মেদিনীপুরে ছুটে আসতে হয়েছে। তাও তৃণমূলের বিজয় রথের গতিকে রোখা যাচ্ছে না। এসব দেখে শুভেন্দু অধিকারী কি কিছুটা চিন্তিত। তাই কী তিনি নিজেকে ভূমিপুত্র বলে দাবি করেও প্রচারে বেরিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে জানতে চাইছেন বিজেপিতে গিয়ে ভুল করেছেন কি না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর বেশ কিছু মন্তব্য প্রমাণ করে দিচ্ছে তিনি যে চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছিলেন সেটা তিনি রাখতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনিই এখন শঙ্কিত। কেননা তা না হলে কেন শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, ‘মাননীয়া আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার জন্য প্রার্থী হয়েছেন।’

শুভেন্দু অধিকারীর পিতা প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারীও বলছেন, ‘আমার পুত্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন।’

এই প্রসঙ্গে কলকাতা টোয়েন্টিফোর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের কাছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে শুভেন্দু এখন এসব বলছেন। শুভেন্দু মমতাকে গালমন্দ করবেন আর মমতা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবেন? কেন তিনি তো নিজেকে নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র বলে দাবি করেন। মমতা নাকি বহিরাগত। তাহলে এখন এসব আবোলতাবোল বলছেন কেন?’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নন্দীগ্রামের মানুষ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় ক্ষমতাশালী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেটা স্পষ্ট, তা না হলে এখন তৃণমূল ছেড়ে নিরাপত্তা চেয়ে রাজ্যপালের কাছে তিনি যাচ্ছেন কেন? তাকে সিআইএসএফ দেহরক্ষী নিয়ে চলতে হচ্ছে কেন? নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে কেন তিনি প্রশ্ন করছেন বিজেপিতে যোগ দিয়ে ঠিক করেছি তো! আসলে শুভেন্দুবাবু বুঝে গেছেন তিনি পরাজিত হয়ে গেছেন।

শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পর কী হয়েছিল স্থানীয় তৃণমূলে?

নিউজ এইটিনের খবরে বলা হয়, শুভেন্দু অধিকারী দলত্যাগ করে বিজেপিতে যাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করেছে তৃণমূল। রঘুনাথগঞ্জ ম্যাকেঞ্জি পার্কে জঙ্গিপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের উদ্যোগে ওই জনসভার আয়োজন করা হয়।

রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি পার্কে লোকের জনসমাগম দেখে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, ‘তৃণমূল দলের সঙ্গে বেইমানি করেছে শুভেন্দু অধিকারী। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে জবাব দেবো।’

মুর্শিদাবাদ জেলার বছর পাঁচেক ধরে তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগদান করার সময় অনেকেই ভেবেছিলেন মুর্শিদাবাদ থেকেও তার সঙ্গে অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবে। কিন্তু সেদিন মুর্শিদাবাদ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেউ যোগ দেয়নি। বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নে মানুষ তাঁকে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করবে।’

শুভেন্দুর কারণে কোণঠাসা ছিলেন মন্ত্রী জাকির

শুভেন্দু অধিকারী জেলার পর্যবেক্ষক থাকার সময় মন্ত্রী জাকির হোসেনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতা নবাব হোসেন। তিনি বলেন, ওই পর্যবেক্ষকের নির্দেশেই বিভিন্নভাবে মন্ত্রীকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শুভেন্দু দল থেকে চলে গেলেও মানুষ যে মন্ত্রীর সঙ্গে আছে জনসভাই তার প্রমাণ। কিছু লোভী মানুষ দল ত্যাগ করলে কিছু যায় আসে না। বিধানসভা ভোটের এর আগে জঙ্গিপুর মহকুমা তৃণমূল শুধুমাত্র জঙ্গিপুর, সাগরদিঘী ও সামশেরগঞ্জ আসনে জয়লাভ করেছিল।

এবারের বিধানসভায় জঙ্গীপুর মহকুমার ৮টি আসনেই জয়ের প্রত্যাশা করে মন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘এই মহকুমায় সবকটি আসনই আমরা যাতে জয়লাভ করতে পারি সেই কারণে আপনাদের কাছে আশীর্বাদ চাইছি। দিদিকে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আমরা চাই।’




নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ




Salat Times

    Dhaka, Bangladesh
    রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:১৭
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩৫
    যোহরদুপুর ১১:৫৮
    আছরবিকাল ৩:২৫
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:২১
    এশা রাত ৭:৩৯




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2018-2020
সারাদেশের সংবাদ দাতা নিয়োগ চলছে ০১৭১১১০২৪৭২
themesba-lates1749691102
বাংলা English