পঙ্গুত্বের আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
পঙ্গুত্বের আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা

পঙ্গুত্বকে হার মানিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন অদম্য এমন মানুষের গল্প প্রায়ই শোনা গেলেও কলঙ্কের চিত্রটিও যেন এক সুতায় গাঁথা। মাদক ব্যবসায়ী পঙ্গু লিটন ওরফে খাইরুল ইসলামের (৫০) গল্পটা সেরকমই। দেখে যে কারও মনে দয়া হলেও লিটনের বাস্তবের চিত্রটি আলাদা। হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি সেবন করেন নিজেও। পুলিশ ও এলাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিতে পঙ্গুত্বই তার পুঁজি। মাদক সরবরাহের প্রধান বাহন তার প্রয়োজনীয় হুইল চেয়ারটি।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাতেনাতে হোরোইন ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে লিটনকে। এরপরই জানা যায় লিটনের রমরমা মাদক কারবারির অজানা কাহিনি।

ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক আগে থেকেই তথ্য ছিল পঙ্গু লিটন শুধু মাদকসেবীই নয়, ব্যবসায়ীও। কিন্তু কখনো তাকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিক্রেতা সেজে হেরোইন ও ইয়াবা কেনার সময় গ্রেফতার করা হয় তাকে।

২০০৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান লিটন। বাম পা শরীরের সঙ্গে থাকলেও কাজে আসে না। ফলে ১৪ বছর ধরে হুইল চেয়ারই তার একমাত্র ভরসা। হুইল চেয়ার নিয়ে ঘোরাফেরার সময় প্রথম মোটর শ্রমিকদের অনুকম্পা পেত। পরে মাথায় আসে ‘মাদকের ভূত ‘। সেই থেকেই পঙ্গু শরীরের দোহাই দিয়ে মাদক কারবারি শুরু। প্রথমে বাসচালকদের সহযোগিতায় বিনা ভাড়ায় হুইল চেয়ারে বসে যেত সীমান্ত এলাকা জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে। সেখানে লুঙ্গির নিচে কাটা পায়ের মধ্যে মাদক এনে বগুড়ায় খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতো। ২০১৮ সালে একবার হেরোইনসহ গ্রেফতার হয় লিটন। ছয় মাস জেল খেটে মুচলেকা দিয়ে জামিন পায়। কিন্তু স্বভাব পিছু ছাড়েনি। নিজে হোরাইন ও ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি বিক্রি করেছে।

৩২ বছর ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িত লিটন। ১৯৮৮ সালে মিনিবাসের হেলপারি করতো লিটন। তখনই গাঁজা ও মদ দিয়ে শুরু। শহরের চারমাথা এলাকা ছিল তার বিচরণক্ষেত্র। ১৯৯৮ সালে হেরোইনের জগতে পা দেয়। এ জগতের সঙ্গী ছিল শহরের নামাজগড় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি আপলু, লালবিবি ও গনেশ। এছাড়া বাদুরতলা এলাকার বোঁচা ছিল তার অন্যতম ডিলার।

জানা গেছে, নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ ও বিক্রি করতো লিটন। জেলার বড় একটি মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য সে। বগুড়ার বৃন্দাবনপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে লিটন।

পুলিশ জানায়, লিটন হুইল চেয়ারে ভাড়া করা অটোরিকশা নিয়ে শহরে ঘোরাফেরা করে। খুব সকালে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরের মাদক আখড়াখ্যাত চামড়াগুদাম-হাড্ডিপট্টি এলাকায় যায়। সেখানে মাদকের পুড়িয়া নিয়ে হুইল চেয়ারের পাইপের মধ্যে বিশেষ কায়দায় রাখে। পলিথিনে রাখা এই প্যাকেটগুলোর একটি বের করলে টিস্যু পেপারের মতো আরোকটির মুখ বের হওয়ার জন্য তৈরি হয়। তার অভিনব পদ্ধতির কারণে কখনো গ্রেফতার হয়নি। সাধারণ মানুষও পঙ্গু ভেবে তাকে কখনো সন্দেহের তালিকায় রাখেনি।

শহরের চামড়াগুদাম-হাড্ডিপট্টি এলাকার চিহ্নিত ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করতো লিটন। এগুলো আবার প্রতিদিন শতাধিক ক্রেতার কাছে সরবরাহও করতো।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির জানান, বুধবার তাকে মাদকসহ গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD