পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটকের ভিড়

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়
দক্ষিণ বাংলা বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গোপালগঞ্জের রামশীল ইউনিয়নের উত্তর জহরের কান্দি ও মুশরীয়ার বিলের। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বুধবার বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন পদ্মবিলে। এছাড়া প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের।ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে বাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে। সবুজ পাতায় ছেয়ে যায় বৃক্ষরাজি।

বিশেষ করে বর্ষাকালে জলজ উদ্ভিদ প্রাণ ফিরে পায়। শাপলা, শালুক, কচুরিপানা আর পদ্মফুলে সজ্জিত হয় খাল-নদী আর বিল। এবছর নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি কম থাকায় শাপলা, শালুক ও কচুরিপানা নেই বললেই চলে। শাপলা ফুল না ফুটলেও হাজার হাজার পদ্মফুল ফুটেছে বিলটিতে। সারি সারি পদ্মফুলের সৌন্দর্য বিনোদন প্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তবে প্রতিদিন শত শত ফুল ছিঁড়ে নিয়ে বিলটির সৌন্দর্য নষ্ট করছেন অনেকেই।

জেলার চারপাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। এর মধ্যে অন্যতম আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে উপজেলার উত্তর জহরের কান্দি ও মুশরীয়ার পদ্মবিল। বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। আর এ কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে পদ্মবিলে বেড়াতে আসছেন লোকজন। সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে এই পদ্মবিল হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থান। শরতের বিকালে তাই বেলা পড়লেই এই বিলে ভিড় করতে থাকেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। নৌকায় ঘুরে বেড়ান বিলজুড়ে, পদ্মের সঙ্গে ছবি তোলেন। দর্শনার্থীদের সার্বিক সহায়তা করতে স্থানীয়রাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

এ কারণে আগে এই বিলে তেমন নৌকা চলাচলের সুযোগ না থাকলেও এখন অনেকেই বিকাল বেলা নৌকা নিয়ে চলে আসছেন বিলে। বিলে বেড়াতে আসা মানুষদের নৌকায় ঘুরিয়ে কিছু বাড়তি আয়ও করছেন। বিলের পারেও গড়ে উঠেছে ছোট-বড় কিছু দোকান। এদিকে, সৌন্দর্য মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবিকার মাধ্যমও হয়ে উঠতে শুরু করেছে এই পদ্মবিল। অনেকেই পদ্ম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই পদ্ম চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরগুলোতেও।স্থানীয় নৌকা চালক অমল জয়ধর বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে কোনও কাজ থাকে না।
তাই পদ্মবিলের পদ্ম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে অনেকেই। এছাড়া এই বিলের পদ্ম ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যায় পাইকাররা।’ এছাড়া নৌকায় করে পর্যটকদের পদ্মবিলে নিয়ে বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য তেমন কোনও পর্যটন কেন্দ্র নেই।


তাই গোপালগঞ্জের উত্তর জহরেরকান্দি বিলসহ বিভিন্ন বিলে পদ্মফুল ও লাল শাপলা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। তাই এতো সুন্দর পদ্মবিলের দিগন্ত জোড়া পদ্মফুল দেখে যে কেউ আনন্দ উপভোগ করবে। প্রতিবছরই প্রকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এখানকার পদ্মফুল দর্শনার্থীদের হাতছানি দেয়। তারা নৌকায় ঘুরে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কিছু সময়ে জন্য হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। পুরো বিল গোলাপী আর সাদা রঙের পদ্ম ভরে ওঠে। এ যেন বিধাতার এক অপরূপ সৃষ্টি যা দেখলে যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রতিদিনই বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। যে যার মতো করে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন আর ক্যামেরার ফ্রেম বন্দি করে রাখছেন এ বিলের অপরূপ সৌন্দর্য। স্থানীয় মাঝিসহ অনেকেই বলেন, এক সময় হাটে এ বিলের পদ্মপাতায় লবণ, মাছ, খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হতো। পদ্মপাতায় মেজবানিও খাওয়ানো হতো। এছাড়া ইরি মৌসুমে এখানে ধানের আবাদ হয়।

ওই সময় পদ্মগাছের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিলটি। তখনই দেখা যায়, হাজার হাজার পদ্মফুল ফুটে আছে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্রমাস পর্যন্ত এ পদ্মফুলফুটে থাকে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বিলটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, বছরে অন্তত চার মাস বিলটিতে পদ্মফুল ফুটে থাকে এবং সৌন্দর্য ছড়ায়।


এসময়টায় পদ্মফুল যেন কেউ না তোলে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি করা প্রয়োজন। পদ্মবিলে ঘুরতে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান তরফদার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশররফ হোসেন জানান, প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক এই পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই বিলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। নৌকায় করে পুরো বিলটা ঘুরলাম। রাশি রাশি পদ্মফুল বিলটাকে পুরো ছেয়ে ফেলেছে। এমন সৌন্দর্য দেখার জন্য সবাইকে অন্তত একবার হলেও এ বিলে আসা উচিত। তারা আরও বলেন, এখানে থাকার বা বসার কোন ব্যবস্থা নেই। সেই সাথে এখানেএকটা মৌসুমী মিনি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবী জানাচ্ছি। সাংবাদিক সরদার হারুন রানা ও প্রবীর বিশ্বাস ননী বলেন, এই পদ্মবিলেপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই। আমাদের বিশ্বাস, যে একবার ঘুরতে আসবে তিনি বারবার আসতে চাইবেন। এই বিলের পদ্মফুলের সৌন্দর্যের টানে প্রতিনিয়তই পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিনোদন প্রেমীদের সুবিধার্থে আরও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবী
জানান তারা।


আরো নিউজ