সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

প্রেমের আকর্ষণ

পাহাড় কন্ঠ ডেস্কঃ
দক্ষিণ বাংলা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০
প্রেমের আকর্ষণ

প্রেম আর ধূম হচ্ছে এমন দুটি জিনিস যা চোখে দেখা যায় না। মানুষ প্রেম ব্যতীত অন্য কিছু নয়। প্রেমের মূর্তরূপে মানব-শিশুকে জন্ম দিবার জন্যে সৃষ্টিকর্তা নারী-পুরষের মাঝে এত অনুরাগ এত আকর্ষণ দিয়েছেন। প্রেম কতসুন্দর,কত পবিত্র, মানব আত্মার পক্ষে মহা কল্যাণকর।যে প্রেমিক হয়েছে, তার হৃদয় যেমন উন্নত ও উদার হয়; যে প্রেমিক হওয়ার পথে দাঁড়িয়ে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে ফিরে এসেছে, তার মনও কত বড় হয়ে যায়। প্রেম বাদ দিলে মানুষের আর কিছুই থাকে না। অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ বলেছেন,-‘যেখানে আনন্দ সেখানেই প্রেম এবং যেখানেই প্রেম সেখানেই আনন্দ। আনন্দ ভিন্ন প্রেম হয় না এবং প্রেম ভিন্নও আনন্দ নাই।’ বনফুল বলেছেন প্রেম শব্দটার মধ্যে মস্ত এক রহস্য লুকিয়ে আছে নিশ্চয়। তা না হলে প্রেম শব্দটা শুনে মানুষ এমন রোমাঞ্চিত হয় কী কারণে?বিশ্বাস করুন দুঃখ ও যন্ত্রণা জয়ের উৎকৃষ্ঠ হচ্ছে সার্থক প্রেম। ইসলাম নানান প্রবঞ্চনার জন্যে প্রেম-প্রণয়কে প্রশ্রয় না দিলেও ইউসুফ-জুলেখার সুমহান আত্মাকে অতীব উচ্চ স্থান দিয়েছে।

প্রেমে আপন-পর নাই, জাতি-বিচার নাই। প্রেম কল্যাণ প্রতিষ্ঠা কখনও নিষ্ঠুর বাক্যে হবে না। কারণ, জীবন তার মহত্বে মানব কল্যাণে যাহা কিছু সুন্দর, পবিত্র তাতেই প্রেম। নিষ্ঠুর কঠিন মুখ শয়তানের; প্রকৃত প্রেম শয়তানের ধরা ছোয়ার অনেক বাহিরে।কঠিন ব্যবহারের রূঢ়তায় মানবত্মার অধঃপতন হয়।সেখানে প্রেমের কোন প্রভাব থাকে না। প্রেম ও দয়া মানব-চিত্তকে জয় করে। মনুষ্য হৃদয়কে আসন পাতবার আকর্ষণ করবার দ্বিতীয় কোন পথ নাই।প্রেমহীন হৃদয় ফল হীন বৃক্ষের মত। প্রেম মানুষকে ত্যাগী করে, তাকে বেদনা বরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে;মানুষের এবং জাতির জীবনকে নিয়ন্ত্রিত কর।প্রেম কখনও মানুষকে অবিবেচক,নিষ্ঠুর আত্মা সর্বস্ব অবিনয়ী, পরস্বার্থহারী, দাম্ভিক করে না।প্রেমেই হওয়া উচিত একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ সাধনা।কারণ,সমস্ত জ্ঞান, সমস্ত সভ্যতা,সকল ধার্মিকতার প্রাণ-হচ্ছে প্রেম। প্রেম ব্যতীত মানুষের সকল সাধনা ব্যর্থ। প্রেম দয়া ও সেবা ইসলামের অঙ্গ। মহা-মনব নিজেই বলেছেন, -‘সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসার ইচ্ছে থাকলে প্রথমে মানুষকে ভালোবাসতে শেখো।

মানুষ প্রেম হতে জন্মেছে, ভালোবাসা তার স্বভাব। মানুষ ভালোবেসে যা কিছু আছে সবই দান করে। প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সে সব দিয়ে রিক্ত হস্তে দাঁড়িয়ে ধন্য হয়। সে যাকে ভালোবাসে, তাকে সর্ব প্রকার সুখী করতে চায়। নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়াতে চায়। মানুষের প্রেমের এটাই স্বভাব। এতেই তার পরমানন্দ। প্রেমিক প্রেমিকাকে হৃদয়ের টুকরা মনে করে, তাকে সুখি করতে বিপদের মাঝে ঝাপিয়ে পড়ে, বিপদকে সে বিপদ মনে করে না। মানুষের জন্যে মানুষের কী অপরিসীম প্রণয়, কী অতুলনীয় প্রেমের অনুভূতি তার। সে আপন প্রনয়ী ও প্রণয়িনীর জন্য পথে কেঁদে মরেছে। পৃথিবীর কোন আকর্ষণ তাকে আনন্দ দেয়-নি। চির জীবনে সে হাসে নাই। পথে পথে বনে বনে ঘুরে, পাহাড় ভেঙ্গে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে তার মহাপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে।সে ধন্য।প্রেমের আকর্ষণ-কখন তার মনে বিস্তর আসন দখন করে বসে,তা বলার মত সাধ্য কারো নেই।

একটি পঙতি আছে- সকলের রয়েছে মন, তার দোর বন্ধ-ভেঙে যায় সেই- দ্বার হেরে দেবতার পারিজাত।

এই দেবতা এক প্রকার মানুষেই। দেবতা বলতে আলাদা কোন জীব নাই। মানুষ যখন নিজেকে অতল ভালোবাসায় সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে দিতে পারে, নিজের অস্তিত্ব বলে কোন কিছু একটা মনে থাকে না-সে দেখে, সব সুন্দর আর আনন্দ, তখন মানুষ দেবতা হয়ে যায়।

মানুষ নামে যারা জন্ম গ্রহণ করে, তারেই একটা মন থাকে। আর এই মনটার ভিতরে ভালোবাসা পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু, এ্ই মনটার চতুর দিক নীরস আবরণে আচ্ছাদিত। এই নীরস কাঠিন্যের আবরণ শত চেষ্টা করেও কেউ ভাঙতে পারে না, আবার ক্ষেত্র বিশেষ এক সেকেন্টে সেই আবরণ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন,-‘প্রেম গাছ থেকে পড়া অন্ধ ডালের মতো,কার ঘাড়ে গিয়ে সে কখন পড়ে তা আগে ভাগে বুঝতে পারা যায় না।

প্রেমের কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই। প্রেম অদৃশ্য বস্তু-যা চোখে দেখা যায় না; দাড়ি-পাল্লা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রেম এক দূরন্ত শক্তি;যা অনুভব করা যায়, হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের প্রেম পরিমাপ করা যায়। প্রেমের শক্তি হৃদয়কে আকর্ষণ করে, হৃদয়কে কাবু করে। প্রেম অনাবিল শুদ্ধ-শুচি এক অনুভূতির নাম; এই শুদ্ধ-শুচি অনাবিল প্রণয়-কুলুষিত কল্ল-ম্লান মন মন্দিরে তেমন আকর্ষণ করতে পারে না। তাই বলা বাহুল্য-যার আত্মা যত পবিত্র, তার প্রেমের শক্তিও তত দামাল।

আমি শুধু শুদ্ধ-শুচি অনাবিল প্রণয়ের কথাটাই বলছ। শুদ্ধ-শুচি প্রণয়ের শক্তির কাছে পৃথিবীর অন্য সকল শক্তি পরাজয় হবে, এতে কোন অপ্রত্যায়ের অবকাশ নেই। কিন্তু যে বস্তুর কল্যাণ যতটা দুর্দমনীয়, সে বস্তু কল্যাণের বিকল্পে যদি অকল্যাণ সাধন করে, তবে তার মত অনীয়ান আর বি-শ্রী বস্তু পৃথিবীর বুকে আর নেই।বিশ্বাস করুন, -অপবিত্র প্রণয় যতটা ঘৃণার বস্তু, আমার দৃষ্টিতে এতটা ঘৃণার বস্তু আর নেই। টয়লেটের ময়লা আবর্জনা এর চেয়ে লক্ষগুন ভালো।

অন্তরীক্ষের পানে তাকিয়ে দেখুন। এরোপ্লেন আকাশে কেমন করে উড়ছে। তার গতি কত চঞ্চল। কত দ্রুত মানুষকে গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। আর স্থলভূমিতে একটা ট্রেন চলছে, তার গতিও একেবারে মন্দ নয়। দু’টি বস্তুর বহন ক্ষমতাও কম নয়। তবে আমি বলতে চেয়ে ছিলাম এ দু’টি বস্তুর মধ্যে কোনটিতে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়? এবং কেন করা হয়?

আপনি অবশ্যই বলবেন, বিমানেই সতর্কতা বেশি অবলম্বন করা হয়; তবে এ সতর্কতা কেন অবলম্বন করা হয় জানেন। কারণ, -দু’টি বস্তু অ্যাকসিডেন্ট হলে,বিমানের ক্ষতি ট্রেনের চেয়ে অনেক বেশি হবে। বিমানের গতি যতটা প্রবল -অ্যাকসিডেন্ট হলে তার ক্ষতিটাও তত প্রবল হবে।

বিশ্বাস করুন, -ভালোবাসা পবিত্র হলে তা আপনার জীবনকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে; আর অপবিত্র হলে তা’আপনার জীবনে যতটা ক্ষতি করবে, অন্য কোন বস্তু আর সে ক্ষতির সমতুল্য হতে পারবে না। প্রেমের আকর্ষণটা এতটা প্রবলে চলে যায়-তখন আর নিজের কথাটা স্মরণই থাকে না। কারণ, -যৌবনের উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে যুবক যুবতির সম্মুখে হয়তো কোনো এক প্রতুষ্যে এক নব জীবনের দ্বার উদঘাটিত হয়ে যায়। এক নব উন্মাদনা বর্ষার প্রচন্ডতায় তার হৃদয়-সাগর বন্যাক্ষুবদ্ধ করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মনের অনুভূতির সঙ্গে কামও পাপের কোনো সংস্রব থাকে না। তবে প্রেম পবিত্র রাখতে হলে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে, -কাম হচ্ছে একজন মানুষর পশুত্বের ভাব-প্রেম হচ্ছে তার দেবত্বের ভাব। প্রেম মানুষকে সংযমী এবং মহৎ করে তোলে, আর কাম তাকে সর্বনাশের গভীর গুহায় টেনে নিয়ে যায়।

মনটা এমন এক যন্ত্র -যা নিয়ন্ত্রণ মানতে চায় না। তার গতি সর্বদা একেই রোকম থাকে না,কখনও বা প্রবল কখনও বা মন্থর। কখনও কাউকে ভালোবাসতে চায়, কখনও বা তাকে ঘৃণা করতে চায়। মনটা যখন কাউকে ভালোবাসতে চায়-তখন অন্যের বাধা যেন তার প্রতিদ্বন্ধির মত মনে হয়; সে তখন নিজের ভালো মন্দের কথাটা ভুলে যায়। তার দৃষ্টিতে সবি উদ্ভাসিত আলোর মত বোধ হয়, আঁধার বলতে কিছু তার বিশ্বাস হয় না। অন্য কেউ বিশদে অবলম্বন করছে, সে অন্ধকার পথে পদার্পন করেছে, কিন্তু সে কথা তার কোন হৈতিষী বললেও যেন তার সাথে বৈরিতা শুরু হয়।

পাহাড় গড়িয়ে পড়া পাথরের স্রোতের মত সব চূর-মার করে সে সম্মুখে চলতে থাকে। সম্মুখের কোন বিশদ প্রতিবন্ধকও তার মনকে কম্পিত করতে পারে না। সম্মুখে সে চলতেই থাকে, উপরে উঠতে থাকে।

প্রেমের টানে একজন মানুষ এতটা উপরে উঠে যায়, সহসা হোছট খেয়ে পড়ে গেলে তার স্থিতি দাঁড়াবে কোথায়, এ সব নিয়ে তার কোন ভাবনা থাকে না। এত উপরে যে তার বসার মত আসন নেই-সে কথা সে আগে জানলেও তখন বিশ্বাস করে না। শেষে এক সময় পাহাড় চূড়া থেকে বয়ে যাওয়া প্রস্রবনের স্রোতের মত গড়িয়ে পড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় সে নিজেই।

ভালোবাসার জীব যখন বুক ছেড়ে কাঁদতে থাকে, তখন সে অনেক উঁচুতে উটে যায়। নীচের লোকেরা ভাবে, এ লোকটার অধঃপতন নিশ্চিত। অবশ্য একটু পা পিছলে গেলেই যে সে অত উঁচু হতে একেবারে পাতালে এসে পড়বে তা সেও বোঝে। তবুও সে কারো কথা না শুনে উঠতে থাকে।

সত্যি ভালোবাসায় কোন কৃত্রিমতায় থাকে না। এই কৃত্রমতাহীন ভালোবাসা হৃদয় দিয়ে বুঝতে হয়। মনে রাখবেন, -প্রেমের আসল নকল দু’টি হৃদয় ছাড়া সমস্ত বিশ্বের কেউ বুঝতে পারবে না।

জগতে যারা হৃদয় দিয়ে ভালোবাসার আসল নকল বুঝতে পারে-নি; প্রকৃত ভালোবাসা কাকে বলে তারা জানে না। তারা ভালোবাসায় কৃত্রিমতা বুঝে না। ভালোবাসা তাদেরকে উন্নতির বিকল্পে অবনতির গভীরে নিয়ে যায়।

প্রকৃত ভালোবাসা সোনার কাঠির পরশ যারা পেয়েছে –তাদের জীবন সার্থকতায় সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। প্রকৃত ভালোবাসা যখন কারো চোখের কালো জৌাতির মত হয়ে পুঠে উঠবে; তখন সে শুধু ভাবতে থাকে, প্রেমে মানুষ কত উচ্চ হতে পারে। ভালোবাসার একটু ছোঁয়ায় যে কি কোমলতার স্নিগ্ধ পূত সুরধণী বয়ে যায়, সারা বিশ্বের অন্তরের অন্তর দিয়ে। ভালোবাসার প্রকৃত পরশে মানুষ যখন এই রকম উচ্চ হতে পারে, অতল ভালোবাসায় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে দিতে পারে, নিজের অস্তিত্ব বলে কোন কিছু একটা মনে থাকে না, তখন সে তার সম্মুখে দেখতে পায় সবি সুন্দর আর সুন্দর।

আব্রাহাম লিঙ্কন একটা কথা বলেছিলেন, -‘অধিকাংশ মানুষই যতখানী খুশী হতে চায়,তাদের মন যা চায় ততটাই তারা হয়।’ যীশুর কথাটা না বললে নয়, তিনি বলেছিলেন,-‘স্বর্গের আবাস মানুষেরই মনে, আবার নরকও তাই।

মনে রাখেবেন,-বস্তুর চেয়ে মানুষের মনের জোর অনেক বেশ। মনের জোর আর দৃঢ়তা নিয়ে কেউ যদি তার স্বপ্নের দিকে এগুতে চেষ্টা করে,তবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হওয়াটা অসম্ভব নয়। কিন্তু হাজার বছর সাধনা করে পাহাড় চূড়ায় উঠে যদি বসার মত আসন না হয়, সহসা ধাক্কা খেয়ে একেবারে পাতালে এসে পড়তে হয়, তবে এ সাধনার কি আস্বাদন হতে পারে? পাহাড় চূড়ায় উঠবার সাধনার আগে, ভেবে দেখুন সেখানে উঠে স্থির থাকতে পারবেন কি-না?

জগতে অসংখ্য প্রেমিক দেখেছি, -কঠিন সাধনা করে সান্নিধ্য পেয়েও ধরে রাখতে পারে-নি। কারণ,-প্রেম যখন মানুষকে গভীর ভাবে আকর্ষণ করে বসে, তখন সে বর্তমান ভূত ভবিষ্যৎ ভুলে যায়। কিন্তু. –তার নিরাসক্ততায় ভবিষ্যৎ তো আর হারিয়ে যায়-নি। ভবিষ্যতের মোকাবেলা তো তাকে হতে হবেই। আর যখন অকল্পনীয় একটা ভবিষ্যৎ সম্মুখে এসে দাঁড়ায়-আবাল্য ভালোবাসা তখন ধীরে ধীরে হটতে থাকে। এক সময় হারিয়ে যায়। শত অন্বেষণ করেও আর সে প্রেম জুটে না।

হয়-তো আপনেরা বলবেন, -‘প্রেমের কোন সমান-অসমান নেই। আর আমি বলছি, সেটা প্রেমের আকর্ষণের কথা, প্রেমের কথা নয়। সমান অসমানে ভালোবাসা যায়, কিন্তু ভালোবাসা করা যায় না। আজ হয়তো আপনেরা প্রেমের আকর্ষণে পড়ে, প্রেমের কথাটা ভুলে গেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, -অসমান মিত্রতা বড় খারাপ। যে দিন প্রেমের আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে সে দিন এই মিত্রতার ফাটন ঘটবে। প্রেমের আকর্ষণে পড়ে প্রেমের কথা ভুলে যাবেন না, তবে এ আকর্ষণ আপনার জীবনকে ধ্বংসের কবলে অভিভূত করবে।

জগতে সবাইকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু সবার সাথে ভালোবাসা করা যায় না। কারণ, -ভালোবাসা মানে দুটি মনের মিলন। যেখানে একটা মন আছে, সেখানে ভালোবাসা হয় না, তবে ভালোবাসা যায়।

ধরুন, -সহসা একজনকে আপনার মন আকষর্ণ করে বসেছে। তার প্রতি আপনি একেবারে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। কিন্তু, -আপনার মনের আকর্ষণের জন্যে সে দায় নয়। এমন কি আপনার এ আকর্ষনের কথা তার বিদিত ও নেই। বিদিত হলেও সে আপনাকে ভালো বাসে-নি। আপনাকে সে ভালেবাসে-নি এ কথা শুনে যদি তার উপর আপনার কোন রাগ আসে, তবে ভাবুন আপনার এটা ভালোবাসা নয়। একটা প্রবঞ্চনা ভালোবাসার আকার ধারণ করে আপনার ভিতরে কাজ করছে। কারণ, -সবার মন এক জিনিসের উপর আকৃষ্ট নয়। হয়-তো এর চেয়ে ভালো কোন উমেদার আপনার জুটবে; কিন্তু এমনও হতে পারে তাকে আপনার মনঃপূত হবে না। এটা তো আর কারো দোষ নয়। মনে রাখবেন, -প্রেমের আকর্ষন কোন মানুষের ইচ্ছার উপর হয় না। সহসা কোন এক মূহুর্তে, কোন এক কারণে, কারো প্রতি কেউ আকৃষ্ট হতে পারে,তা এই আকৃষ্টতার উপর নির্ভর করে তার ভালোবাসা, কিন্তু যার প্রতি আকৃষ্ট হয় সে যদি তাকে ভালো না বাসে, তবে সেখানে ভালোবাসাটা থেকেই যায়। ভালোবাসা করা যায় না। জগতে অসংখ্য পবিত্র প্রেম গোপন রয়েছ। টেনিসন বলেছেন, -‘ভালোবাসার জগতে সেই বুদ্ধিমান, যে ভালোবাসে বেশি কিন্তু প্রকাশ করে কম।

ভালোবাসার এক মূহুর্তের আকর্ষণে জগতের অনেক বড় বড় মানুষও কাবু হয়ে গেছে। তাই তো বললাম প্রেমের আকর্ষণ শক্তি এমন একদূরন্ত শক্তি, -যা মানুষকে কোথায় নিয়ে যায় সে নিজেও জানে না। এই শক্তিকে আমি মন্দ বলছি না, এই শক্তি অনেকেরে উপরেও তোলে নিয়েছে; প্রেমের আকর্ষণের কোন নির্দিষ্ট নিময় নেই। কারণ, ভালোবাসা এমনি একটা প্ল্যাটফরম যেখানে সব শ্রেণীর লোকই দাঁড়াতে পারে।

কবি ম্যাসন একটি মজলিশে এক নারীকে লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি সারা সন্ধ্যা কারো সঙ্গে একটি কথাও বলেন নি। এই কারণেই কবির মন এই নারীর প্রতি প্রসন্ন হয়ে উঠলো। শেষে তিনি একে বিয়ে করেছিলেন। ম্যাসনের জীবনও হয়েছিল সুখময়। বস্তুত এক একটা বিশেষ বিশেষ গুণে বিশেষ বিশেষ মানুষকে মুগ্ধ করে। সে গুন হয়-তো কালের কাছে বিশেষ প্রীতিপদ নয়। কেউ কারো হাসি অবলোকন করে উন্মাদ হয়ে উঠে, আবার কেউ হাঁটার ভঙ্গিমা, কেউ বা কথার স্বরে, কেউ বা গানে কেউ বা নাঁচে; এমনও অনেক আছে লোভে পরে আকৃষ্ট হয়ে যায়। অধিকাংশ মনুষ রূপে আকৃষ্ট হয়;তবে প্রকৃত প্রণয় আকৃষ্ট করে মানুষের বিশ্রুতিকে। তবে একটা কথা স্মরণ রাখবেন, কারও পিয়সী কখনও কুৎসিত হয় না।

ধরুণ আপনি একজনকে পছন্দ করেন। মনে মনে তাকে ভালোবাসেন। তার জন্যে আপনার ভিতর দিকটা অস্থির হয়ে আছে; তবে তাদের অবস্থা আপনাদের চেয়ে অনেক উপরে, বা শিক্ষার দিক দিয়ে আপনার চেয়ে অনেক উপরে। তবে এ ভালোবাসা আপনি প্রকাশ না কারায় ভালো। কারণ, হয়-তো আপনি শত চেষ্টা করে তার মন জযী করে নিলেন, আপনার প্রতি তাকে আকৃষ্ট করলেন, কিন্তু এই আকর্ষণ একদিন থাকবে না। সে দিন আপনার ভালোবাসা আপনাকে কলঙ্কিত করে তোলবে। একটা প্রবাধ বাক্য মনে রাখবেন. –‘অভাব যখন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।’অচিরে দেখবেন আপনাদের এ ভালোবাসা ও হারিয়ে যাবে। আলেকজেনডিডেসের কথাটা কখনো ভুলে যাবেন না, -‘গরিব লোক যদি ধনী নারী বিয়ে করে, তা হলে সে স্ত্রী পায় না, পায় একজন শাসক।

অসমানে প্রকৃত প্রেম হলেও তা বেশিদিন থির থাকে না। তাই একজন মনিষী বলেছিলেন, -‘ছোট বড় প্রেম একেবারেই আপত্তিজনক।’ ছোটদের সমীচীন নয় বড়দের সঙ্গে ভালোবাসা করা, তাতে তার নানা প্রকার বিপদ এবং ক্ষতি হবে। সে দিন প্রেমের আকর্ষণ আর এ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। বড়’র সঙ্গে মেলবার এক উৎকট প্রবৃত্তি ছোটদের সব সময়ে থাকে, এটি বড় খারাপ। মনে রাখবেন, -যারা তেমন করে একদিন বড় লোকের সংশ্রব থেকে তাদেরকে অনেক দূরে সরে আসতে হবে।
প্রেমের আকর্ষণে যখন কেউ কাবু হয়ে পড়ে-তখন ছেলে মেয়ে কারই তেমন চৈতন্য থাকে না; এ প্রেম তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে? কিন্তু আকর্ষণের পর যখন প্রেম আরম্ভ হয়, বাস্তব জীবনে যখন পদার্পন করে তখন সহসা শিউরে উঠে। এ প্রেমের আকর্ষণ তাকে কোথায় নিয়ে এলো। তখনি স্থির হয়ে দাঁড়ায়, আর সম্মুখে চলতে চায় না। প্রেমের প্রতি তখন ঘৃণা জন্মে, ভাবে প্রেম মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। শেষে এ শিকল ভাঙবার নানান কৌশল অবলম্বন করে।

মানব জীবনে প্রেমের যে একটা অতি মহৎ সার্থকতা আছে, সাধারণ শ্রেণীর মানুষ তা অনুভব করে না। প্রেম মানুষকে সংযমী, চরিত্রবান, বলবান, সাধনায় দৃঢ়বান করে-যুবককে সংগ্রামশীল, মহৎও গৌরবশীল করে।

প্রেমের ভুল আকর্ষনেই যদি মানুষ নিজেকে উজার করে দেয়, তবে একদিন আকর্ষণ থেমে যাবে,-কিন্তু ভুলের মাশুল দেওয়া থেকে বিরত থাকবে না। জন ম্যন্সিফিল্ড বহু বছর গবেষণা করে বলেছেন, -‘ভালোবাসা রঙিন প্রজাপতির মত উড়ে উড়ে ছন্দ তুলে যায়। কিন্তু, চলে যাওয়া মাত্রই সেখানে এক বিবর্ণ বিষন্নতা নেমে আসে।


আরো নিউজ