বানারীপাড়ার বাদশা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে মন্দির কমিটির সংবাদ সম্মেলন

দক্ষিণ বাংলা
দক্ষিণ বাংলা বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
বানারীপাড়ার বাদশা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে মন্দির কমিটির সংবাদ সম্মেলন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ফখরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া বাহিনীর হাত থেকে জম্বদ্বীপ শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দির সুরক্ষা ও ভক্ত-পূজারিদের জীবন সুরক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মন্দির কমিটি। বৃহস্পতিবার ( ১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এসংবাদ সম্মেলন করেন জম্বদ্বীপ মিস্ত্রি বাড়ির শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অনিতা সমদ্দার।
লিখিত বক্তব্যে অনিতা সমদ্দার বলেন, বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জম্বদ্বীপ গ্রামে – শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরে আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রার্থনা ও পূজা করে আসছি। গত একমাস ধরে বানরীপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া এবং তার সহযোগীরা আমাদের মন্দিরটি ভেঙে ফেলার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদেরকে পূজা বন্ধ করে মন্দির ভেঙে ফেলতে অন্যথায় আমাদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। জামায়াত ইসলামের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ফখরুদ্দিনের বাদশা মিয়া এবং তার সহযোগী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে এবং মন্দির এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। আমাকে এবং মন্দিরের পূজারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ির পুরুষ লোকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভয় দেখাচ্ছে। আমরা পূজা বন্ধ না করলে বাড়ির পুরুষ লোকদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে ফখরুদ্দিনের ক্যাডাররা।
হুমকির বিষয়টি স্থানীয় এমপি,জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ কে অবহিত করা হয়েছে। এতে করে তা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয় । তারা যে নিয়মিত হুমকি ও মহড়া দিচ্ছে সে বিষয়টি যাতে আমরা প্রশাসনকে না জানাই- সে জন্য আমাদেরকে অস্ত্র তাকিয়ে ভয় দেখায় ফখরুদ্দিনের সন্ত্রাসীরা। বাদশা মিয়া তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকার অনেক হিন্দু বাড়ি দখল করে নিয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকেও একটি পরিবারকে ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। তাদের জমিজমা লিখে নিয়েছে। তারা আমাদের শরিক হয় আদালতে আবেদন করায়, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। রায় ঘোষণার পর ফকরুদ্দিন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এছাড়াও ফকরুদ্দিন তার স্ত্রীর নামে এলাকায় একাধিক ইটভাটা তৈরি করেছে। এসকল ইটভাটার জমি স্থানীয় হিন্দুদের, আবার কিছু সরকারি খাস জমি। ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।
এসময় তিনি আরো বলেন, ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া এবং তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের ভীতি ও আতঙ্ক ছাড়া বেঁচে থাকতে পারি, আমাদের পবিত্র প্রার্থনালয় শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরটিকে সুরক্ষা করতে পারি সেই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃসাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের সভাপতি হেমাঙ্গিনী মিস্ত্রি, সহ- সভাপতি চিত্ত রঞ্জণ মিস্ত্রি,সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় রঞ্জন মিস্ত্রী,সদস্য স্বরসতী মিস্ত্রি সহ ভক্ত-পূজারিরা ।


আরো নিউজ