বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়েসহ তিনজনকে চাপাতির কোপ

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়েসহ তিনজনকে চাপাতির কোপ

রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব শনির আখড়ায় মা-মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম পরানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১০।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে সোমবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবকে জানিয়েছেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়তে না পারায় আক্রোশে তিনি চাপাতি দিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনির আখড়ায় একটি বাড়িতে ঢুকে রুহুল কুদ্দুস বাবু, মাসুদ কিবরিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, তার মেয়ে মাহামুদা মেহেরিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পরান। এ ঘটনায় রুহুল কুদ্দুস বাবুর বড়বোন বাদি হয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে র‌্যাব অভিযুক্ত পরানকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় ৭-৮ বছর আগে একই রুমে থাকতেন আহত রুহুল কুদ্দুস বাবু ও গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পরান। সে সময় অপর একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মাসুদ কিবরিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের (৩৫) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে চান পরান। তবে এতে বাধা দেন রুহুল কুদ্দুস বাবু। এ কারণে পরানকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেন বাড়ির মালিক। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পরান বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ইয়াসমিন আক্তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ইয়াসমিন আক্তারকে উত্ত্যক্ত করতেন। এতে আবারও বাধা দেন রুহুল কুদ্দুস বাবু।

এর জের ধরে পরান রোববার সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতিসহ বাবুর বাসায় যান। রুহুল কুদ্দুস বাবু দরজা খুলতেই পরান বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাবুর মুখে, কানে, চোখের উপরে, মাথায়, ঘাড়ে ও ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম করেন। বাবুর চিৎকার শুনে ইয়াসমিন আক্তার ও তার মেয়ে মাহামুদা মেহেরিন বাবুকে বাঁচাতে গেলে পরান প্রথমে মেয়ে মাহামুদাকে তার ডান হাতে ও পরে ইয়াসমিন আক্তারের মাথায় গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশিরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD