রাতে হলেই থাকছেন শিক্ষার্থীরা, সিন্ডিকেট বিরোধী বলছে প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
রাতে হলেই থাকছেন শিক্ষার্থীরা, সিন্ডিকেট বিরোধী বলছে প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ফটকের তালা ভেঙে আবাসিক হলে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্রীদের হল নতুন করে তালাবদ্ধ করা হলেও ছাত্ররা হলেই অবস্থান করছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকাকে নিরাপদ মনে করছি না। তাই এখন হলে থাকার বিকল্প নেই।

তবে তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করাকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

হল খোলার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

গতকালের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে তিনটি দাবি পেশ করেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও বিচার ও আহত শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন, গেরুয়ার সঙ্গে ক্যাম্পাসের সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দেয়া।

এরপর শহীদ মিনার থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গেলে শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ এবং গেরুয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক নির্মাণের দাবি মেনে নেন।

তবে হল খোলার দাবি না মেনে তা সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বিক্ষোভ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ফটকের তালা ভাঙতে শুরু করেন। একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবক’টি হলে প্রবেশ করেন তারা। বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলসহ ছাত্রীদের বেশকটি হলে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন। তবে এখনও ছাত্ররা হলে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘হল খোলার বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত এলে তবেই হল খোলা সম্ভব। উপাচার্যদের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সভা রয়েছে। এরপর বিস্তারিত জানা যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি সিন্ডিকেট ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী গেরুয়া এলাকাবাসী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হন।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD