হারিয়ে যাচ্ছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প

মনির হোসেন,বরিশাল
দক্ষিণ বাংলা বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
হারিয়ে যাচ্ছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প

প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা,জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে যাওয়া এবং বাঁশ-বেত সামগ্রীর চাহিদা বাজারে কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প। ফলে এ পেশায় নিয়োজিত বিভিন্ন উপজেলার শত শত পরিবারকে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে চলতে হচ্ছে। অনেকে আবার বংশ পরম্পরায় করে আসা এ পেশা ছেড়ে নিয়োজিত হচ্ছেন ভিন্ন পেশায়।

জানা গেছে, সুপ্রাচীনকাল থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বরিশালের পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠিসহ সকল জেলাগুলোর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রাম গায় বাঁশ-বেত শিল্পের প্রসার ঘটে। এসব গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা বাঁশ-বেত শিল্প নির্ভর হওয়ায় আশ-পাশে দ্রæত এ শিল্পের নামে পরিচিতি লাভ করে পুরো অঞ্চলটি।
বরিশালের বাঁশ-বেত শিল্পীরা তাদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করতো সৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী।
তাদের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে ছিল- শীতলপাটি, চাটাই, ডুল, হাতপাখা, পুড়া , দোলনা , বাশি, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, মড়া, সাজি, আফরো, চাই, বুচনা, চেলনি খলনি ইত্যাদি নানা বাহারি জিনিস।

পরিবারের ছেলে, বুড়ো, নারী, শিশু সবাই মিলে পারিবারিক পরিবেশে এ কাজ করা যেত বলে সকলেই কর্মজীবী ছিলেন। এতে তাদের জীবন চলতো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। ফলে এ কুটির শিল্পের কাজ দ্রæত প্রসারিত হয় গ্রামে গ্রামে । এ শিল্পের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হিসেবে বাঁশের চাষও হতে থাকে বাড়ি বাড়ি।

কিন্তু এই অঞ্চলের বাঁশ-বেত শিল্পের সে ঐতিহ্য বর্তমানে আর নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন আবাসন তৈরিতে ভূমি ব্যবহার হতে থাকায় বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয় ভূমি যায় কমে।
অপরদিকে বাজারে এ শিল্প সামগ্রীর বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের নানা জিনিসের সহজলভ্যতা এবং সেসব সামগ্রী তুলনামূলকভাবে দামে কম হওয়ায় ধীরে ধীরে এ কুটির শিল্পে নেমে আসে ধস। ফলে অধিক পরিশ্রম করে এ সামগ্রী তৈরি করে সংসার চালানো কষ্টকর। অনেকে এ কর্ম ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে অন্য কাজে মানিয়ে নিতে না পারায় আঁকড়ে ধরে আছেন এ পেশা।

বরিশাল বিভাগের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্পটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একাধিক কুটির শিল্পরা বলেন, কৃষি প্রধান বাংলাদেশে প্রতিটি কৃষক পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হলো এইসব জিনিস। কৃষি শস্য সংরক্ষণ এবং প্রতিদিন ব্যবহার্য এসবের বিকল্প কখনোই প্লাস্টিক সামগ্রী হতে পারে না।
পরিবেশ বান্ধব এ কুটির শিল্পটিকে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহŸান জানান তারা ।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD