৭ হাজার টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ বাংলা বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
৭ হাজার টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ গুম করার দায়ে ছোটন মিয়া নাকে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ ১নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় মামলার সকল আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছোটন মিয়া নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ঘাটুয়া পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ঘাটুয়া পশ্চিমপাড়ার ছোটন মিয়া একই গ্রামের মৃত মো. আবদুলের মেয়ে হাফসা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি। বিয়ের দুই বছরের ২০০৫ মাথায় ৭ হাজার টাকা যৌতুক চান করেন তিনি। বাবার বাড়ি থেকে তা এনে দিতে না পারায় স্ত্রী হাফসাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। পরে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় ছোটন। কিছুদিন পর চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে স্ত্রী হাফসাকে আবারও নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ছোটন।

এর কিছুদিন পর বোনের খোঁজখবর নিতে ছোটনের বাড়িতে যান হাফসার বড় ভাই মো. তামজিদ। সেসময় ছোটনের বাবা আবদুর রহমান তাকে জানিয়েছিলেন- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে হাফসাকে গোবিন্দ্র শ্রী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে খোঁজ নিয়েও হাফসাকে খুঁজে না পাওয়া যায়নি।

পরে ২০০৫ সালের ২৪ মে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বরশীকূড়া এলাকায় বালুচর থেকে হাফসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দুইদিন পর ২৬ মে নিহত হাফসার বড় ভাই তমজিদ বাদী হয়ে ছোটন মিয়া, তার দুই ভাই ইসলাম উদ্দিন ও রোকন উদ্দিন, বাবা আবদুর রহমান, চাচা আবদুল মান্নাফ ও কুসুম উদ্দিনকে আসামি করে ইটনা থানায় একটি মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান। পরে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এ আফজাল। আর আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোটেক অশোক সরকার।


আরো নিউজ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHOSTBD